বঙ্গবন্ধু: মহত্তম শহীদ ও ইতিহাসের দায়
দেশপ্রেম ও নৈতিকতা আমাদের বাধ্য করে এ
কথা স্বীকার করতে যে, বঙ্গবন্ধুই হচ্ছেন স্মরণাতীতকালের মানবজাতির ইতিহাসে
সর্বশ্রেষ্ঠ মহত্তম শহীদ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নিন্দনীয় ও অভিশপ্ত
প্রত্যুষে বঙ্গবন্ধুর শহীদ হওয়ার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণের জন্য এই উপমহাদেশের
বঙ্গবন্ধুর সমকালীন পর্যায়ে তার মতো ব্যক্তিত্বের জন্ম বিকাশ আর কাউকে
খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই বঙ্গবন্ধুর উত্থান ও বিকাশের পেছনে অবিকৃত
সাক্ষ্য তুলে ধরা না হলে ইতিহাসে তাকে যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব নয়।
এ পর্যন্ত তাকে নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে,
ভবিষ্যতেও হবে। এ কথা অজানা নয় যে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত নির্বিশেষে
সব প্রকার অবিচার অবিমৃশ্যকারিতা ও অপরাধ প্রতিরোধ তথা বিরোধিতা করার
মানসিকতায় বাল্যকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু বেড়ে উঠছিলেন। তদানীন্তন সামাজিক
বাস্তবতায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিবাদের প্রাথমিক স্তর ছিল সাম্প্রদায়িক বিচ্যুতির
বিরুদ্ধে। তিনি যখন বুঝতে শিখেছেন, অর্থাৎ সেই কিশোর কাল থেকে তিনি
প্রত্যক্ষ করেছেন তথাকথিত উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের অত্যাচারী ভূমিকা।
উল্লেখ্য, সে সময় সংখ্যালঘিষ্ঠ সুবিধাভোগী
শ্রেণীর লোকরা সীমাবদ্ধ ছিল ক্ষুদ্রতর শিক্ষিত উচ্চবর্ণের হিন্দু
সম্প্রদায়ে, এ কথাটি ১৯ শতকের ২০ এবং ৩০ এর দশকের ইতিহাসে প্রমাণিত। ১৭৫৭
থেকে গত শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই নীতি অনুসরণ
করেছে। উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের নির্বাচিত সদস্যদের পৃষ্ঠপোষকতা ও
পরিপুষ্টির জন্য কাজ করেছে। ঠিক এই পর্যায়ে তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান
সাধারণভাবে পশ্চাৎপদ শ্রেণী, বিশেষ করে মুসলমানদের প্রতি শোষণ নীতির ফলে
এদের নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার প্রত্যক্ষ করেন।
প্রতিকারহীন দুর্দশার প্রত্যক্ষদর্শী
বঙ্গবন্ধু এই প্রক্রিয়াকে পাল্টাবার জন্য আপসহীন প্রতিবাদ ও আন্দোলনমুখর
হন। তরুণ বয়সেই তিনি সত্য ও ন্যায়ের প্রতীকে রূপান্তরিত হন। গড়ে উঠতে থাকে
তার সীমাহীন ব্যক্তিত্ব। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বঙ্গবন্ধুর প্রতিবাদমুখর
ভূমিকাকে বিশেষ গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক চেতনা প্রসূত বলে প্রচার করেছিল যা ছিল
সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। বিদেশি শাসকদের নীতি ছিল সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টি
করা। এখানে উল্লেখ্য যে, সে সময় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
মুসলমানদের নগণ্য সংখ্যকের বিলম্বিত প্রবেশ ভাগ্যবান শিক্ষিত হিন্দু
সম্প্রদায়ের কাছে পছন্দনীয় ছিল না, যদিও এটা হয়েছিল বিদেশি শাসকদেরই অনুসৃত
পরিকল্পিত নীতির দরুন।
১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশ বিভক্তির
প্রাক্কালে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শতকরা প্রায় একশ’ ভাগ
শিক্ষকই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত। বাংলার পশ্চাৎপদ সব শ্রেণী এবং বিশেষ
করে মুসলমানদের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠ উচ্চবর্ণের শিক্ষিত হিন্দু শ্রেণীর
বিদ্বেষভাব প্রক্ষিপ্ত হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসকদের সাম্প্রদায়িক কূটচালে
উপমহাদেশের প্রধান দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গাও সংগঠিত হয়েছিল। ইংরেজদের
কূটবুদ্ধি প্রসূত পরিকল্পনার ফলে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈরী
ভাবাপন্ন পরিবেশ বিরাজ করছিল। সবচেয়ে অনুভূতিপ্রবণ ও প্রতিভাশালী
ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু তার যুুবকালে এই ভেদনীতির সঙ্গে নিজেকে খাপ-খাওয়াতে
পারেননি।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে গোড়ার দিকে
তিনি ছিলেন মুসলিম লীগের আপসহীন নিবেদিত প্রাণকর্মী। সে সময় কার্যত মুসলিম
লীগই ছিল মুসলমানদের একমাত্র প্লাটফর্ম। পর্দার পেছনে ব্রিটিশদের কলকাঠি
নাড়ার কারণে উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সাম্প্রদায়িক চেতনা
প্রতিভাত হয়। সাম্প্রদায়িক কারণে উপমহাদেশকে খণ্ড বিখণ্ড করে রেখে যাওয়ার
ব্রিটিশ কূটবুদ্ধি প্রসূত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে তিন
খণ্ডে দুটি রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
ইংরেজদের বাণিজ্যিক স্বার্থ সংরক্ষণের হীন
চক্রান্তের ফসল হিসেবে ভারত-পাকিস্তান নামে রাষ্ট্র দুটোর অভ্যুদয়কালে
কোনো রক্তপাত না ঘটলেও পরবর্তীতে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের দাঙ্গাজনিত
রক্তাক্ত ইতিহাস সভ্যতাকে কলঙ্কিত করে ভারত-পাকিস্তান নামে দুটি দেশ জন্মর
পর থেকেই উভয় দেশের সরকারই হোয়াইট হলের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রেখে
আসছিল। স্বাধীনতার পরবর্তীকালেও সে ধারা অব্যাহত থাকে। দেশ ভাগের পর
মুসলমানদের প্রতি অপ্রতিরোধ্য ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ বাঙালি মুসলমানদের
উৎসাহপূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সমর্থনে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক
কর্তৃত্ব সংখ্যালঘিষ্ঠ অবাঙালি মুসলমানদের হাতে ন্যস্ত হয়।
এদিকে ১৯৪৭ সালে কোনোরূপ চাপ এবং
বাধ্যবাধকতা ছাড়াই বাংলার জনগণ ছাগসুলভ নিষ্পাপ অনুভূতিতে তাড়িত হয়ে যেভাবে
সব রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অবাঙালিদের হাতে ন্যস্ত করেছে তার প্রশংসা বা
স্বীকৃতি প্রদান করা ছাড়া ভিন্ন গত্যন্তর ছিল না। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শ
অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলার সন্তান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীরই গোটা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা। কেননা বংশানুক্রমে মননে এবং
প্রশিক্ষণে তিনি ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের
অনেক উপরে।
দুঃখজনকভাবে ১৯৪৭ সালে বাঙালি মুসলমানরা
সাম্প্রদায়িক চেতনার মায়াজালে আচ্ছন্ন হয়ে সকল পাকিস্তানির প্রতি সুবিচার
করবেন এই প্রত্যাশার অবাঙালি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং অবাঙালি
সুদর্শন শিক্ষিত অবাঙালি মুসলমানদের প্রতি বাংলার মুসলমানদের ছিল অবিচল
আস্থা ও বিশ্বাস সেই সাথে আনুগত্যও। তবে অল্প কিছুদিনের ভেতরে বাঙালির
বিশ্বাস ভঙ্গ হয়। সে সময় তরুণ শেখ মুজিব ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন যে, দ্রুত
এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষিত সুদর্শন অবাঙালি মুসলমানরা বিশ্বাসঘাতকতায়
সংক্রমিত হবে।
কেননা ব্রিটিশ শাসনকালে শিক্ষিত মার্জিত
সুদর্শন উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্রিয়াকলাপ দেখেছেন এবং নানা বিষয়ে
শেখ মুজিবের অভিজ্ঞতার ঝুলি ছিল পরিপূর্ণ তরুণ বয়সেই। তিনি তার দর্শন দিয়েই
উপলব্ধির প্রয়াস পান যে, অবাঙালি শিক্ষিত মুসলমান এবং উচ্চবর্ণের হিন্দু
সম্প্রদায়ের মধ্যে রুচিগত কোনো তফাৎ নেই। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি অবাঙালি
শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হন এবং সে সময়কার এই প্রতিবাদীকে
রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে সাব্যস্ত করে শাসকগোষ্ঠী।
৪০-এর দশকের শেষদিকে সোহরাওয়ার্দী যখন
ভারত থেকে বিতারিত হয়ে পূর্ববঙ্গে আশ্রয় নেন তখন মুসলীম লীগ নেতাদের অপকর্ম
প্রতিরোধের লক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী মুসলিম লীগের পত্তন করেন। তরুণ
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক হন। আপসহীন ব্যক্তিত্ব
রূপে শেখ মুজিব বিকশিত হন। আওয়ামী মুসলীম লীগ পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগে
রূপান্তরিত হয়ে বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন শুরু করে। সকল
প্রতিথযশা নেতৃবৃন্দকে ডিঙিয়ে বঙ্গবন্ধু শীর্ষ স্থানটিতে অভিসিক্ত হন তার
নিজস্ব যোগ্যতা ও মেধার কারণে।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যদি
বাংলাদেশে না এসে পৌঁছতেন তাহলে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসজ্জিত পরস্পরবিরোধী
আদর্শের অনুসৃত দল, গ্রুপ ও ক্লিকের মধ্যকার সংঘাতজনিত যুদ্ধে বাংলাদেশ
ধ্বংস হয়ে যেত সম্পূর্ণরূপে। বঙ্গবন্ধুর নামের জাদুতেই আধুনিক রাষ্ট্রের
অবকাঠামো ছাড়াই বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে উঠে। এদিকে বাংলাদেশি
সকল সামরিক ও বেসামরিক অফিসারদের ভুট্টো পাকিস্তানে আটকে রেখেছিলেন এবং
বিজয়ের পূর্বমুহূর্তে তার দোসরদের দ্বারা প্রগতিশীল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের
হত্যা করান, এই কারণে যে, বঙ্গবন্ধু যেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনায়
ব্যর্থ হন।
ভুট্টোর অনুগত কিছু রাজনীতিবিদ সামরিক
বেসামরিক আমলা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন দেশে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে যোগ দেন মূলত,
এরাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সরকারকে অদক্ষ ও দুর্নীতি পরায়ন করে তুলতে সক্ষম
হয়। বঙ্গবন্ধুকে অনেকটাই অজনপ্রিয় করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু
বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির হৃদয় মন্দিরে অনেক আগেই ঠাঁই করে নিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু ক্ষমতা গ্রহণ করে পূর্ব বাংলায় যেসব সাধারণ মানের আমলাদের কর্মরত
দেখতে পান তাদের মধ্যেও অনেকে বঙ্গবন্ধু সরকারকে উৎসাহ প্রণোদিত সমর্থন
দেননি।
এক আধুনিক স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনায়
সু-কঠিন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ রাজনীতিবিদ ও প্রশাসক বঙ্গবন্ধুর
প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ফলে তাকে এককভাবেই এ দায়িত্ব পালন করতে হয়।
এভাবেই বঙ্গবন্ধুর অনুরাগীদের মধ্যকার মানব ইতিহাসের জঘন্যতম ষড়যন্ত্রকারী
বিশ্বাসঘাতকরা বঙ্গবন্ধু হত্যার পটভূমি তৈরি করে। কিন্তু নিজেদের অজ্ঞাতেই
আবার বঙ্গবন্ধুকে আমাদের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ শহীদে পরিণত করেন। বঙ্গবন্ধুর
পর যারা বাংলাদেশের শাসন ভার গ্রহণ করেন তারা কৃতজ্ঞতার ঋণ পরিশোধ করেন
বঙ্গবন্ধুকে দোষারোপ করার মাধ্যমে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, উপমহাদেশের
ভৌগোলিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক রাজনীতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর ধারণা ছিল
অপর্যাপ্ত তার সহজ সরল দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারে তাকে সাহায্য করার মতো কোনো
উপদেষ্টাও ছিল না। ধীরস্থির বস্তুনিষ্ঠ এবং রাজনীতিক মূল্যায়নে আমরা
স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এই সত্যোপলব্ধিতে উপনীত হতে পারি
যে, পাকিস্তান থেকে ফিরে আসার পর বঙ্গবন্ধুর উচিত ছিল নিজে ক্ষমতা গ্রহণ না
করে মহাত্মা গান্ধীর পথ অনুসরণ করা। ক্ষমতার চেয়ারে না বসেও জাতির পিতা
হয়ে আমাদের মতো শাসনের অযোগ্য জাতিকে শাসনের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারতেন।
আবার এটাও ঠিক ক্ষমতার চেয়ারে না বসেও কোনো উপায় ছিল না।
তবে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ
এবং সমাজতন্ত্রের প্রতি পারস্পরিক আস্থার পটভূমিতে বঙ্গবন্ধুর যা কারণীয়
ছিল তিনি সেটাই করেছেন। তাকে এ ব্যাপারে কেউ কোনো পরামর্শ দেয়নি। তবে
একথাটা দৃঢ়তার সঙ্গেই বলতে হয় যে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির
সহযোগিতা ব্যাতিরেকে সীমান্তের বাইরে অবস্থানরত বাঙালিদের রেখে আমাদের
স্বাধীন সার্বভৌম সত্ত্বা নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। মহান বাঙালি হিসেবে
বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি; যিনি তার বিশ্বাসের জন্যই আত্মত্যাগ করতে
পেরেছেন এবং যার ইসলামের প্রতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি নিরঙ্কুশ
আনুগত্য ছিল। একথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
শ্রদ্ধা জানাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট
অন্যান্য যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি, শ্রদ্ধা জানাই ১৯৭৫ সালের ৩
নভেম্বর জেলখানায় ঘাতক কর্তৃক নিহত চার নেতার প্রতি, শ্রদ্ধা জানাই ২০০৪
সালের শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা নিহত শহীদদের প্রতি। সে সঙ্গে
শ্রদ্ধা জানাই স্বাধীনতা সংগ্রামে ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন
তাদের প্রতি। একটি কথা আজ মনে রাখতে হবে যে, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও
২০০৪ সালের ২১ আগস্টসহ সংঘটিত হত্যাকাণ্ড দেশীয় আন্তর্জাতিক পারস্পরিক
দেশবিরোধী চক্রান্তের যোগসূত্র বিদ্যমান ছিল। তবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে
শিখা বঙ্গবন্ধু প্রজ্বলিত করে গেছেন তার আলোয় উদ্ভাসিত হবে সারা বিশ্ব। যে
সময়ে বঙ্গবন্ধু শাহাদাৎ বরণ করেন সে সময়টা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহভাজন
গুটিকয়েক মানুষের জন্যই নির্দিষ্ট।
- লেখক : কলামিস্ট ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক
