অমরত্ব লাভে ধনকুবেরদের অদ্ভুত বিনিয়োগ
অমরত্ব লাভ এবং বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণের বহু
গল্প রয়েছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে। কিন্তু বাস্তব জগতে তার প্রয়োগ নিয়ে
কেউ ভেবেছে কি? আসলে আপনার হাতে যদি থাকে বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলার তাহলে হয়ত
অমরত্ব লাভ ছাড়া আর কোনো ইচ্ছে বাকি থাকে না। আর সে কারণেই বিশ্বের অনেক
নামীদামী ধনকুবের বিনিয়োগ করছেন অদ্ভুত সব বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রমে।
কিশোর ও তরুণদের (১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সের)
দেহের রক্ত নিয়ে তা বয়স্কদের দেহে প্রবেশ করালে মানুষের দীর্ঘায়ু লাভ সম্ভব
কিনা তা নিয়ে গবেষণা করছে আমব্রোসিয়ে, আলখায়েস্ট এবং ইয়াং ব্লাড
ইন্সটিটিউট। বিষয়টি একটি সাইন্স ফিকশন চলচ্চিত্র থেকে নেয়া। কিন্তু তাদের
দাবি, ইঁদুরের ওপর এই পরীক্ষা চালিয়ে সফলতা এসেছে। কিন্তু মানুষের ওপর এই
পরীক্ষায় এখনো পূর্ণ সফলতা পাওয়া যায়নি। তারপরও এই গবেষণায় আগ্রহ প্রকাশ
করছেন পেপালের কো-ফাউন্ডার পিটার থেল। তিনি আমব্রোসিয়ের গবেষণা কার্যক্রমে
অর্থ সহায়তাও প্রদান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনাও হয়েছে।
শুধু তাই নয়। অমরত্ব বা দীর্ঘায়ু লাভের
জন্য আরো একটি গবেষণা কার্যক্রমে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি। সেটি হলো
ক্রায়োনিকস। ধরুন আপনি মারা গেলে, আপনার দেহকে এমনভাবে সংরক্ষণ করা হলো
যাতে করে ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানের উন্নতি হলে আপনাকে আবার জীবিত করে তোলা হবে,
বিষয়টি কেমন হবে? এটিও বিজ্ঞানের কল্পকাহিনীর মতই। কিন্তু এ ধরণের গবেষণা ও
দেহ সংরক্ষণের আহ্বান জানাচ্ছে এলকোর লাইফ এক্সটেনশন ফাউন্ডেশন,
ক্রায়োনিকস ইন্সটিটিউট, সাসপেন্ডেড এনিমেশন ইনকোরপোরেশন এবং ক্রিয়োরাস। এই
প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৬১ হাজার পাউন্ড খরচ করে আপনার মাথা সংরক্ষণ করতে পারবেন
অথবা ১ লাখ ৫২ হাজার পাউন্ড খরচ করে পুরো শরীর সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই
গবেষণায় কানাডার ব্যবসায়ী ও ফিউচার ইলেক্ট্রনিক্সের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট
মিলারও বিনিয়োগ করছেন।
ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য চাইলে আপনার স্মৃতি
এবং অনুভূতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন 'ডিজিটাল কনশাসনেসের' মাধ্যমে। এটিকেও
কল্পকাহিনী বলে মনে হলেও মানুষের অনুভূতি সংরক্ষণের জন্য এমন গবেষণা
কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের মেন্টাল হেলথ বিভাগও বিনিয়োগ করছে। আর যে সকল
প্রতিষ্ঠান আপনার এমন স্মৃতি ও অনুভূতিগুলো সংরক্ষণ এবং ক্লাউডে প্রবেশের
মাধ্যমে আপনাকে অমর করার কথা বলছে তাদের মধ্যে রয়েছে নেকটম ও ট্রাসেন্ট
মুভমেন্ট ফাউন্ডেশন। এই কার্যক্রমে ভবিষ্যতে অংশ নিতে এখনই সাইনিং করতে
হবে, যার জন্য খরচ করতে হবে ৭ হাজার ৬০০ পাউন্ড। 'ওপেন এআই'-এর
কো-চেয়ারম্যান মার্কিন ব্যবসায়ী স্যাম অ্যাল্টম্যান এ গবেষণায় বিনিয়োগ
করছেন।
বিশ্ব যদি দুর্যোগ, সৌরঝড় বা যুদ্ধে
বিধ্বস্ত হয় তাহলে আপনাকে সাহায্য করবে অ্যাপকিলিপ্স ইনস্যুরেন্স। বিশ্বের
অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেড্ডিটের সিইও স্টিভ হাফমেন এ
ধরণের বীমা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এখনো কোন প্রতিষ্ঠান এ ধরনের বীমা
প্রদান করছে না, কিন্তু নিউজিল্যান্ড এ ভাবনায় ব্যস্ত ধনীদের আশ্রয় গ্রহণের
জন্য নিজ দেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বিশ্বের মূল দুর্যোগ থেকে নিউজিল্যান্ড
পৃথক থাকতে পারবে বলে ধারণা করে। মজাদার বিষয় হলো এ ধরণের কার্যক্রমে
আগ্রহী হিসেবে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এবং পেপালের
কো-ফাউন্ডার পিটার থেলও আগ্রহী।
পৃথিবীতে চলছে ধুলোঝড়, আর মানুষ অন্য গ্রহ
বা স্পেশশিপে আশ্রয় নিচ্ছে এমন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর অভাব নেই। কিন্তু
বাস্তব জীবনে এ ধরণের কোন কিছু ঘটার সম্ভাবনা দেখছেন অনেক ধনকুবের। আর সে
কারণেই মঙ্গলগ্রহ, চাঁদে বা মহাকাশযানে নিজ ঠিকানা গড়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ
করছেন তারা। এ ধরণের গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগও করছেন। এ তালিকায় রয়েছেন
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, স্পেস এক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক,
চারশো'র বেশি প্রতিষ্ঠানের মালিক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী রিচার্ড ব্রানসন এবং আরো
অনেকে।
