শিনোনাম

২৭ বছরেও হয়নি ফতুল্লায় ইউপি নির্বাচন হয়নি


ফতুল্লা প্রতিনিধি
ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে না ২৭ বছরেও। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে করে এই ইউনিয়নের মানুষ এতবছর ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত রয়ে গেছেন। সব ধরণের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও তারা পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য নিজেদের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে ১৯৯৬ সালে ইউনিয়নের পক্ষে বিপক্ষে হাইকোর্টে দুটি মামলা দায়ের কারায়। আর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার জটিলতার কারনে ২৭ বছরেও এখনও নির্বাচন করতে পারছে না নির্বাচন কমিশনার। ফতুল্লা ইউনিয়ণবাসী বলছেন যারা স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে মামলা করিয়েছেন চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য তারা তো মৃত তাহলে কেন এখন ফতুল্লা ইউপি নির্বাচন হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ফতুল্লায়। জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপার কার্যালয়সহ নারায়ণগঞ্জ আদালত জেলা কারাগার রয়েছে এই ফতুল্লাতেই। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে এখানে। জেলা পরিষদ, এলজিডিআর উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ও রয়েছে এই ইউনিয়নে। দশমিক ৬১ বর্গমাইল আয়তনবিশিষ্ট ইউনিয়নটির লোকসংখ্যা প্রায় দের লাখের বেশী। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং সামাজিক ধর্মীয় দিক দিয়েও ফতুল্লার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ফতুল্লা ইউনিয়নে সরকারি-বেসরকারি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, আছে মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, বৈদ্যুতিক পাওয়ার হাউসসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়া সত্বেও ইউনিয়ন পর্যায়ে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে নির্বাচনের দেখা পায়নি ফতুল্লাবাসি। অভিযোগ উঠেছে, ১৯৯৬ সালে ফতুল্লা ইউনিয়নের তত্কালীন চেয়ারম্যান নূর হোসেন ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মালেক মিলে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য পর্দার আড়ালে থেকে তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে হাইকোর্টে ইউনিয়নের পক্ষে বিপক্ষে দুইটি মামলা দায়ের করান। এতে ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত রাখতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়া এখনো অনিশ্চিত। এদিকে গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ১৯৯৬ সালে ফতুল্লা ইউনিয়নের পক্ষে বিপক্ষে দায়ের করা মামলার দুই বাদীর আসল পরিচয়। কাদের পরামর্শ এবং কার নির্দেশে তারা মামলা করেছিলেন তাও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। মামলার বাদীর মধ্যে একজন হলেন ফতুল্লার কুতুবআইল এলাকার মৃত হাসান আলী মাতবরের ছেলে মৃত কদর আলী মাতবর এবং অপরজন একই এলাকার মৃত সোহরাব মাতবরের ছেলে হানিফ মাতবর। এদের মধ্যে কদর আলী মাতবর ফতুল্লা ইউনিয়নকে পৌরসভা করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট মামলা করেছিলেন আর হানিফ ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ বহাল রাখার দাবি জানিয়ে রিট মামলা করেছিলেন। সম্প্রতি তাদের পূর্বের বক্তব্য মৃত কদর আলী মাতবর মৃত্যুর আগে বলেছিরেন, নূর হোসেন চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মেম্বার আমাকে হানিফকে বেড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে ডেকে গাড়িতে উঠিয়ে ঢাকা হাইকোর্টে নিয়ে যায়। ঘনিষ্টতার কারণে তাদের সব কথাই শুনতাম আমি হানিফ। হাইকোর্টে একজন নারী আইনজীবীর চেম্বারে নিয়ে দুইটি কাগজ বের করে দুইজনকে দিয়ে স্বাক্ষর করান। তখন আমরা দুজনেই জিজ্ঞেস করি কি কাগজে স্বাক্ষর করালেন। তারা আমাদের বলেন একটি মামলা করবো সেখানে তোমরা দুজন সাক্ষী দেবে। পরে সব বুঝিয়ে বলবো। এরপর শুনি তারা আমাদের দুজনকে দিয়ে দুইটি মামলা করিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালের অক্টোবর নূর হোসেন চেয়ারম্যানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর ১৫ দিন পর মালেক মেম্বারকে নিয়ে আমি হানিফ হাইকোর্টে যাই। এরপর সেই মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিতে অনুরোধ করি আইনজীবীকে। এতে তিনি দুইটি কাগজে স্বাক্ষর রেখে বলেন, এটি আদালতে জমা দেয়ার পর আপনাদের মামলা প্রত্যাহার হয়ে যাবে। আর আদালতে আসতে হবে না। একই কথা বলেন হানিফ মাতবর। তার অভিযোগ, আব্দুল মালেক মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেছেন। ২০১১ সালের অক্টোবর নূর হোসেন চেয়ারম্যানের স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে চলছে এবং ২০১৯ সালের জুলাই মাসে মালেক মেম্বারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। অনেকেই বলছে এতে করে সাধারন মানুষ এবং ফতুল্লা ইউনিয়ণের বিভিন্ন এলাকা উন্নয়ন মূলক কাজ থেকে বঞ্চিত। ফতুল্লা ইউনিয়ণবাসী দাবী নির্বাচন হোক। আর নির্বাচন হলে যেই নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হবে আসবে সেই ফতুল্লাবাসীর জন্য উন্নয়ণ মূলক কাজ করবে। ফতুল্লা ইউনিয়ণের ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার মারা গেলে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হয় কিন্তু মামলার জটিলতার কারনে অনেকদিন যাবৎ নির্বাচন হচ্ছে না, আমিও চাই নির্বাচন হোক।