ফেরির সাথে দুটি লঞ্চের ত্রিমুখী সংঘর্ষ
মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের
শিমুলিয়া নৌপথে একটি ডাম্ব ফেরির সাথে দুটি যাত্রীবোঝাই লঞ্চের ত্রিমুখী
সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৫ জন যাত্রী আহত হয়েছে। রোববার রাত ৮টার দিকে পদ্মা
নদীর লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিআইডব্লিউটিএ কাঁঠালবাড়ি ঘাট ও
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র জানায়, রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে
যাত্রীবোঝাই করে এমবি সুরোভী ও এমবি আশিক নামে দুটি লঞ্চ শিমুলিয়ার
উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ সময় লঞ্চ দুটিতে অন্তত ৫ শতাধিক যাত্রী ছিল। লঞ্চ
দুটি কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ছেড়ে পদ্মা নদীর লৌহজং টানিং পয়েন্টে গতি কমিয়ে
দেয়। এ সময় শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঁঠালবাড়িগামী ছেড়ে আসা রায়পুরা নামের একটি
ডাম্ব ফেরি লৌহজং টানিং পয়েন্টের চ্যানেলটি অতিক্রম করছিল। চ্যানেলটি সরু
থাকায় ফেরি মোড় ঘুরাতে গেলে লঞ্চ দুটির সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময়
লঞ্চের ছাদ থেকে দুজন যাত্রী পানিতে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিক অন্য যাত্রীদের
সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। সংঘর্ষে আহত হয় আরো ৫ জন। পরে লঞ্চ দুটি
ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ডুবোচরে আটকে যায়। পরে কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে
যাত্রীশূন্য লঞ্চ গিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করে আনা হয়।
শিবচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।
সৃষ্টিকর্তার রহমত থাকায় তেমন কিছু হয়নি। ফেরির ধাক্কায় লঞ্চ থেকে দুজন
যাত্রী নদীতে পড়ে গেলেও তাদের অন্য যাত্রীরা উদ্ধার করে। এছাড়াও অন্য
যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি আরো
বলেন, নদীর লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ চলমান আছে।
এর ফলে চ্যানেলটি এখন সরু। ডাম্ব ফেরি চ্যানেল অতিক্রম করতে পরিধি বেশি
প্রয়োজন হয়। এই কারণেই ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। বিআইডব্লিউটিএ কাঁঠালবাড়ি
লঞ্চঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, 'দুটি লঞ্চে কয়েকশ যাত্রী
ছিল। পদ্মা নদী শান্ত থাকায় সংঘর্ষে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। যাত্রীরা নিরাপদে
আছেন। এছাড়াও ফেরি ও লঞ্চদুটি নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। ঘটনার পরে আধা
ঘন্টার মত ফেরি ও লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি
স্বভাবিক হয়।
