শ্বাসকষ্ট দূর করে ঝিঙ্গা
আয়ুর্বেদ মতে ঝিঙ্গা শীতল, মধুর,
পিত্তনাশক, তবে বাত, কফ ও বায়ু সৃষ্টি করে। এটি শ্বাসের কষ্ট অর্থাৎ
হাঁপানি, জ্বর, কাশি ও কৃমিরোগ উপশম করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও পেট
পরিষ্কার করে। এটি দেরিতে হজম হয় বলে রোগীদের পক্ষে খাওয়া অনুচিত। ধুন্দুল
স্নিগ্ধ, বলকারক, রুচিবর্ধক, বায়ুনাশক, রক্তপিত্ত (নাক ও মুখ দিয়ে রক্তপড়া)
ও বাতপিত্ত কমায়, কৃমিনাশক ও কফ নিবারক।
হৃদরোগ, যকৃৎগত রোগ বা অন্যান্য কারণে
কাঁচা ঝিঙ্গা ও এর পাতার রস অথবা যে কোনো একটার রস নিয়ে একটু গরম করে রাখতে
হবে। সে রস থেকে দুই চা চামচ করে ২ ঘণ্টা পর পর তিন-চারবার আধা কাপ পানির
সঙ্গে মিশিয়ে পান করতে হবে। তবে শুধু পাতার রস হলে দুইবার খাবে ও ঝিঙ্গা
ফলের রস চারবার দেয়া যাবে।
ক’দিন এভাবে খেলে ধীরে ধীরে শোথ ও
মূত্রকৃচ্ছ তা, সে সঙ্গে মূত্রস্বল্পতার উপশম হবে। চাপা অম্বল, গা প্রায়
সময় বমি বমি করে, সে ক্ষেত্রে ঝিঙ্গার পাকা বীজ তিন-চারটা নিয়ে বেটে এক কাপ
পানি গুলে খেতে হয়। তাতে পেটে বায়ু থাকলে তাও কমে যাবে। বমির ইচ্ছাটাও
থাকবে না; তবে বীজ তেতো হলে বমি হয় বলে দুর্বল, বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী
মহিলাকে খাওয়ানো যাবে না।
ঝিঙ্গা লতার শিকড় (আকশী) গরুর দুধে বা
ঠাণ্ডা পানিতে মেড়ে পর পর তিন দিন খেলে পাথুরি দূর হয়। মাথার যন্ত্রণায়
কাঁচা ঝিঙ্গার রস দুই-তিন ফোঁটা নাকে টেনে নিলে এবং সেই সঙ্গে দুই চা চামচ
রস একটু গরম করে সাত-আট চা চামচ পানিতে মিশিয়ে পান করলে শ্লেষ্মা বেরিয়ে
গিয়ে যন্ত্রণা কমে যাবে। এছাড়া ঝিঙ্গা শুকিয়ে গুঁড়া করে নস্যি নিলে
মাথাব্যথা সারে।
