সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানের শিক্ষার্থীরা
ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ইউক্রেনের
যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে
ক্ষোভ ঝাড়তে হাজারো শিক্ষার্থী তেহরানের রাস্তায় নেমে এসেছে।
বিক্ষোভ থেকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ দাবি করা হয়।
৩ জানুয়ারি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের
কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল সোলাইমানি হত্যার বদলা নিতে গত বুধবার
ভোরের দিকে মার্কিন সেনারা যেখানে থাকেন, ইরাকে এমন দুটি সামরিক ঘাঁটি
লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর কয়েক ঘণ্টা পর ইউক্রেন
ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে
উড়োজাহাজের ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হন।
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতদের প্রতি
শ্রদ্ধা জানাতে শরিফ ও আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থীরা জড়ো
হন। সন্ধ্যার দিকে তা বিক্ষোভ সমাবেশে পরিণত হয়।পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ
সহ যুক্তরাষ্ট্র উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছিল।
প্রথমে এই দাবি অস্বীকার করে তেহরান। তবে আন্তর্জাতিক তদন্তে চাপের মুখে
সত্য লুকানো সম্ভব হলো না ইরানের। গতকাল শুক্রবার ইরান স্বীকার করে জানায়,
তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিধ্বস্ত হয় উড়োজাহাজটি। তবে ইচ্ছাকৃত নয়,
শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ভেবে ভুলে এটা হয়েছে।
বিবিসি খবরে বলা হয়, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার
ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল শরিফ ও আমির কবির
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। সন্ধ্যার দিকে তা প্রতিবাদ
ক্ষোভে পরিণত হয়।
বার্তা সংস্থা ফারসের খবরে বলা হয়, এক
হাজারের বেশি শিক্ষার্থী দেশটির নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। একই
সঙ্গে সোলাইমানির ছবি ছিঁড়ে ফেলে। শিক্ষার্থীরা বিমানটিকে ভূপতিত করার
সঙ্গে জড়িতদের এবং যারা নিজেদের দায়কে আড়াল করতে চেয়েছে তাদের সবার বিচার
দাবি করেন।
‘কমান্ডার ইন চিফ’ হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ
নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ এবং উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার ঘটনা
প্রথমে গোপন করায় ‘মিথ্যাবাদীদের মৃত্যুদণ্ড’ দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।
এএফপিফারসের খবরে বলা হয়, সড়ক অবরোধ করে
রাখা বিক্ষোভকারীদের পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়তে দেখা গেছে।
