শিনোনাম

বাফুফেকে ক্ষমা চাইতে বললেন তরফদার রুহুল আমিন

সদ্য-সমাপ্ত সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের ১৩তম আসরে ফুটবলে ভরাডুবির কারণে ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) জাতির কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইতে বলেছেন সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক তরফদার মো. রুহুল আমিন। গতকাল মহাখালীর রূপায়ন সেন্টারে সাইফ পাওয়ার টেকের বোর্ডরুমে নেপালে এসএ গেমস কাভার করা সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) উপমহাসচিব, ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু।
এসএ গেমস ফুটবলে প্রত্যাশিত সোনার পদক জেতা হয়নি অনূর্ধ্ব-২৩ দলের মোড়কে বাংলাদেশের জাতীয় দলের। ফলে ২০১১ সাল থেকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ স্বপ্ন হয়েই রয়ে গেছে। দেশের ফুটবলের এমন অবস্থার কারণ বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের (বিডিডিএফএ) মহাসচিব তরফদার মো. রুহুল আমিন বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের ফুটবল।
ভারত-পাকিস্তান বিহীন টুর্নামেন্টে আমরা জাতীয় দল পাঠিয়েও সাফল্য পেলাম না। এ অবস্থা তৈরি হয়েছে দিনের পর দিন ধরে চলা ফুটবলের অব্যবস্থাপনার কারণে- তরফদার রুহুল আমিন মনে করেন এমনটাই। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দ্রুত সাফল্যের আশায় শর্টকাট উদ্যোগ আমাদের ফুটবলকে শেষ করে দিচ্ছে। ফুটবলের রোগ সারাতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।
বাফুফে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দিন দিন ধ্বংসের দ্বারপান্তে যাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল। তিনি আরো বলেন, বিজয়ের মাসে ফুটবলে স্বর্ণ না পাওয়া লজ্জাজনক। এমন কলঙ্কময় অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার জন্য বাফুফে করজোড়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
এই বাফুফের সভাপতিই ২০২২ সালে বাংলাদেশ বিশ^কাপে খেলবে বলে আশা করেছিলেন! তার এ কথা আজ বিশ^াস করতে কষ্ট হয়। বাংলাদেশ আদৌ কোনোদিন বিশ^কাপে খেলতে পারবে কিনা, তাও হয়তো কারো কারো ভাবতে ইচ্ছা করে না। দলবদল শেষে নতুন মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে জাতীয় দলে খেলতে গিয়ে অনেকে পা বাঁচিয়ে খেলেছেন বা নিজেকে তেমনভাবে মেলে ধরেননি বিওএ উপমহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু। তিনি বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ইনজুরিতে পড়লে তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বাফুফে বহন করে না। আহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি মাসুক মিয়া জনির কথা উল্লেখ করেন।
গতকাল নেপালে এসএ গেমস কাভার করে ফেরত আসা উপস্থিত সাংবাদিকদের কয়েকজন সভায় নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে তরুণ এক ক্রীড়া সাংবাদিক বলেন, ক্যামেরা হাতে ফুটবলারদের হোটেল কক্ষে গিয়ে সবাইকে পাওয়া যায়নি।
কারো নামোল্লেখ না করে তিনি হোটেলের বাইরে খেলোয়াড়দের মুড়ি খেতে দেখেন। আবার কয়েকজন খেলোয়াড়কে দেখেন শপিং থেকে ফিরতে। অথচ বিদেশ ভ্রমণে ফুটবলাররা সব সময় কঠোর নজরদারি ও নিয়মানুবর্তিতার ভেতর অবস্থান করতে হয়, যা নেপালে মোটেও দেখা যায়নি। এ ছাড়া বিশ^কাপ বাছাই পর্বে খেলা রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি থেকে ইংলিশ কোচ জেমি ডে আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফেরাতে পারেননি তার শিষ্যদের। মোট কথা একই কোচের অধীনে জাতীয় দল এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের দায়িত্ব অর্পণ, কোচের কৌশলগত এবং টিম কম্বিনেশনে ভুল ছিল। অথচ দেশে থাকা যোগ্যতাসম্পন্ন স্থানীয় কোচদের সঠিক ব্যবহার করছে না বাফুফে।