পিইসি-ইইসির বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২৪-২৮ ডিসেম্বর
চলতি বছর প্রাথমিক সমাপনী সনদ (পিইসি) ও
ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়া যেসব শিক্ষার্থীকে
বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের অবশিষ্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪, ২৬ ও ২৮
ডিসেম্বর। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক
শিক্ষা অধিদফতর (ইইসি)।
আর অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ৩১
ডিসেম্বরই তাদের ফল প্রকাশ করা হবে। জানা গেছে, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৪
ডিসেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৬ ডিসেম্বর বাংলা ও বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচিতি
এবং ২৮ ডিসেম্বর গণিত এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হবে।
এ ছাড়া ইবতেদায়িতে ২৪ ডিসেম্বর ইংরেজি ও
আরবি, ২৬ ডিসেম্বর বাংলা, বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচিতি ও বিজ্ঞান এবং ২৮
ডিসেম্বর গণিত, কুরআন মজিদ, তাজবিদ, আকাইদ ও ফিকাহ বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া
হবে। এসব পরীক্ষা প্রতিদিন দুটি ধাপে আয়োজন করা হবে।
প্রথম ধাপে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা
পর্যন্ত এবং দুপুর ২টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। তবে প্রতিবন্ধী
শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বাড়তি সময় দেয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ইইসি)-এর
(ডিপিই) মহাপরিচালক ড. এএফএম মনজুর কাদির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি
বলেন, ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন কারণে পরীক্ষার হলে বহিষ্কার হওয়া
শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে যেসব বিষয়ে বহিষ্কার
করা হয়েছে সেসব বিষয়ে আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর পিইসি
পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এই নির্দেশনার ১১ নম্বর
অনুচ্ছেদে ‘শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’ নেয়ার বিধান করা হয়। এই
বিধানের ক্ষমতাবলে গত পিইসি পরীক্ষায় ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ১৫ জন খুদে
শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে গত ১৯ নভেম্বর
‘পিইসি পরীক্ষায় শিশু বহিষ্কার কেন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন
সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল, এম মাহমুদুল
হাসান, গাজী ফরহাদ রেজা ও মো. ফয়জুল্লাহ ফয়েজ। এই প্রতিবেদন দেখার পর আদালত
গত ২১ নভেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। রুলে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত
বহিষ্কার করা ১৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং
বহিষ্কৃত ১৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে
চাওয়া হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, প্রাথমিক
শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ চারজনকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে রুলের জবাব
দিতে বলা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালত বহিষ্কৃত খুদে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা
পুনরায় গ্রহণের আদেশ দেন।
