স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি, ফিরলেন লাশ হয়ে
ভাগ্য
পরিবর্তনের আশায় সৌদি আরবে
গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন
নারায়ণগঞ্জের শাহনাজ। যে স্বপ্ন নিয়ে
সন্তানকে রেখে গৃহকর্মী হিসেবে
সৌদিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি
সে স্বপ্ন পূরণ হলো
না তার।
মঙ্গলবার
(২০ আগস্ট) সকালে তার
নিথর দেহ এমিরেটস এয়ারলাইনসের
একটি ফ্লাইটে করে হযরত শাহজালাল
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
জানা
যায়, শাহনাজ নারায়ণগঞ্জের বন্দর
থানার চুনাবুড়া গ্রামের আছির উদ্দিনের স্ত্রী।
গ্রামের দালালের খপ্পরে পড়ে এজেন্সির
মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়
এক বুক স্বপ্ন নিয়ে
গত বছরের নভেম্বর মাসে
গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে
গিয়েছিলেন শাহনাজ। সৌদিতে যাওয়ার আট
মাস পর লাশ হয়ে
দেশে ফিরতে হলো তাকে।
বিমানবন্দরের
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপসহকারী
পরিচালক (ডিএডি) আনিসুজ্জামান জানান,
‘শাহনাজের মৃতদেহ তার পরিবারের
কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ
সময় ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার
বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফন
খরচ বাবদ তাদের ৩৫
হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
আর মৃত্যু বাবদ ক্ষতিপূরণের
টাকা পরবর্তী সময়ে দেওয়া হবে।’
এদিকে
শাহনাজের পরিবার জানায়, গৃহকর্মীর
কাজ নিয়ে তিনি সৌদি
আরবে গিয়েছিলেন। গৃহকর্তা গত জুনের ৩০
তারিখে জানান, স্ট্রোকে মারা
গেছে শাহনাজ। সেখানেই লাশ দাফন করে
দিতে চান তিনি। তবে
পরিবারের দাবির মুখে ৫০
দিন পর লাশ পাঠাতে
বাধ্য হন গৃহকর্তা।
পরিবারের
সদস্যদের অভিযোগ, শাহনাজ অসুস্থ্য হলেও
তাকে কোনও প্রকার চিকিৎসা
দেওয়া হয়নি। সৌদিতে যাওয়ার
পর শাহনাজ আট মাসে
মাত্র সাতবার দেশে ফোন
করেন। কিন্তু সেই নম্বরে
আবার যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া
যেতো না।
তারা
জানান, সৌদি আরবে শাহনাজের
নিয়োগকর্তার পরিবারের দাবি, শাহানাজ আত্মহত্যা
করেছেন। কিন্তু বিভিন্ন নির্যাতনেই
শাহানাজের মৃত্যু হয়েছে বলে
অভিযোগ পরিবারের।
এদিকে
মাকে হারিয়ে শোকাহত ছেলে
সজীব জানান, তার মায়ের
সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় গত
রমজানের ঈদের আগে। তখন
বলেছিলেন তিনি খুব অসুস্থ্য।
সৌদি আরবের ওষুধ তার
শরীরে কাজ করছিল না।
তাই তাকে যেন প্রেসারের
ওষুধ পাঠানো হয়।
সজীব
বলেন, মালিকরা মায়রে আরও একটা
বাসায় কাজ করাইত। সেইটা
মায় কইছিল। তার প্রেসারও
বাড়ছিল। হের লাইগা ওষুধ
চাইছিল কিন্তু পাঠাইবার পারলাম
না।
